Category: MBangla Leathers

  • কোরবানির সস্তা চামড়া যেভাবে কোটি টাকার বিলাসবহুল ব্র্যান্ডে রূপ নেয়

    কোরবানির সস্তা চামড়া যেভাবে কোটি টাকার বিলাসবহুল ব্র্যান্ডে রূপ নেয়

    আমরা প্রতিদিন কতশত চামড়ার জিনিস ব্যবহার করি—পায়ের জুতো, হাতের ব্যাগ, শীতের জ্যাকেট কিংবা শখের গাড়ির দামি সিট কাভার। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই চকচকে ও মসৃণ পণ্যগুলোর পেছনের আসল গল্পটা ঠিক কেমন?

    গোটা পৃথিবীতে প্রতিদিন লাখ লাখ টন মাংস উৎপাদিত হচ্ছে। আর এই বিশাল মিট প্রোডাকশন ফ্যাক্টরিগুলো থেকে প্রতিদিন উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে বেরিয়ে আসছে হাজার হাজার কিলোমিটার পশুর চামড়া। বিশ্বজুড়ে এই চামড়া প্রসেস করার এক বিশাল শিল্প গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে কোরবানির ঈদের সময় যে চামড়াগুলো পানির দামে বিক্রি হয়ে যায়, সেগুলোই কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের নামী-দামী ফ্যাক্টরি ঘুরে আমাদের কাছেই ফিরে আসে লাখ টাকার ব্র্যান্ডেড পণ্য হয়ে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা অত্যন্ত সহজ ভাষায় জানবো, কীভাবে একটা নোংরা, রক্তাক্ত কাঁচা চামড়া ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি লাক্সারি পণ্যে রূপান্তরিত হয়।

    কাঁচামাল সংগ্রহ ও কোরবানির বাজারের ভেতরের খেলা

    লেদার বা চামড়া শিল্পের প্রথম ধাপটাই হলো কাঁচামাল বা পশুর কাঁচা চামড়া (Raw Hide) সংগ্রহ করা। বছরের সাধারণ দিনগুলোতে বিভিন্ন কসাইখানা বা মিট প্রসেসিং প্ল্যান্ট থেকে নিয়মিত চামড়া সংগ্রহ করা হলেও, এই ব্যবসার আসল মৌসুম হলো কোরবানির ঈদ।

    বছরের অন্য দিনগুলোতে যে চামড়ার বাজারমূল্য থাকে ২,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা, কোরবানির দিন সেই চামড়াটাই মাত্র ৫০০ বা তার চেয়েও কম টাকায় বিক্রি হয়ে যায়। এর মূল কারণ হলো একসঙ্গে প্রচুর চামড়ার জোগান। বাজারে যখন হঠাৎ করে লাখ লাখ চামড়া চলে আসে, তখন চামড়া ব্যবসায়ীরা এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন। তারা দেশের দূর-দূরান্ত থেকে অত্যন্ত সস্তায় এই চামড়াগুলো কিনে নেন। এরপর পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বড় বড় লেদার কোম্পানিগুলো এই চামড়াগুলোকে ট্রাকের পর ট্রাক বোঝাই করে ফ্যাক্টরি বা ট্যানারিতে নিয়ে আসে। এখান থেকেই শুরু হয় চামড়ার আসল রূপান্তরের ম্যাজিক।

    ট্যানারির প্রাথমিক ধাপ হলো সোর্টিং এবং ওয়াশিং প্রসেস

    ফ্যাক্টরিতে চামড়া আসার পর কিন্তু সরাসরি মেশিনে দেওয়া যায় না। কাঁচা চামড়া দ্রুত পচে যায়, তাই একে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং পরবর্তী ধাপের উপযোগী করার জন্য বেশ কিছু প্রাথমিক কাজ করতে হয়।

    ১. লবণ মাখানো ও সংরক্ষণ (Salting)

    চামড়া ফ্যাক্টরিতে আসার সাথে সাথেই তাতে প্রচুর পরিমাণে লবণ মাখিয়ে বেশ কিছু সময় বা দিন রেখে দেওয়া হয়। লবণ চামড়ার ভেতরের অতিরিক্ত পানি শুষে নেয় এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এর ফলে চামড়া নরম হয় এবং দীর্ঘদিনেও পচে না।

    ২. গ্রেডিং বা ক্যাটাগরি বিভাজন (Sorting)

    সব চামড়া এক কোয়ালিটির হয় না। কোনো পশুর চামড়া মোটা হয়, কোনোটির পাতলা। আবার অনেক চামড়ায় ক্ষত বা দাগ থাকে। তাই দক্ষ শ্রমিকরা চামড়ার গুণগত মান, আকার এবং থিকনেস দেখে এগুলোকে আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন। কোন চামড়া দিয়ে জুতো হবে, আর কোনটা দিয়ে জ্যাকেট বা ব্যাগ তৈরি হবে—তা এই ধাপেই ঠিক করা হয়।

    ৩. স্টেইনলেস স্টিলের ব্যারেলে ওয়াশিং (Washing & Soaking)

    এবার চামড়াগুলোকে ক্রেনের সাহায্যে তুলে বিশাল বিশাল স্টেইনলেস স্টিল বা কাঠের তৈরি রোটেটিং ব্যারেলের (Rotating Barrel) ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এই ব্যারেলগুলো অবিরাম ঘুরতে থাকে। ব্যারেলের ভেতর পানি এবং বিশেষ রাসায়নিকের মিশ্রণ থাকে, যা চামড়ার গায়ে লেগে থাকা অতিরিক্ত লবণ, রক্ত, ময়লা এবং পশুর গায়ের পশম পুরোপুরি পরিষ্কার করে দেয়। এই প্রসেসটি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত চলে।

    ফ্লেশিং এবং ট্রিমিন হলো মাংস ও চর্বি আলাদা করার পদ্ধতি

    ব্যারেল থেকে ধুয়ে বের করার পর চামড়াগুলোকে পাঠানো হয় ‘ফ্লেশিং’ (Fleshing) সেকশনে। কাঁচা চামড়ার ভেতরের দিকে প্রচুর চর্বি, মাংসের টুকরো এবং এক ধরণের আঠালো জেলাটিন লেগে থাকে। এগুলো পরিষ্কার না করলে চামড়া দিয়ে কোনো পণ্য তৈরি করা সম্ভব নয়।

    • ফ্লেশিং মেশিনের কাজ: চামড়াগুলোকে একটি রোটেটিং রাবার ব্লেডযুক্ত মেশিনের ভেতর দিয়ে পাস করানো হয়। এই মেশিনটি চামড়ার ক্ষতি না করে ভেতরের সব চর্বি ও মাংস স্ক্র্যাপ করে আলাদা করে ফেলে।
    • বাই-প্রোডাক্ট বা জেলাটিন সংগ্রহ: ফ্লেশিং প্রক্রিয়ায় চামড়া থেকে যে চর্বি এবং জেলাটিন বের হয়, তা কিন্তু ফেলে দেওয়া হয় না। এগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ কোম্পানিতে পাঠানো হয় ক্যাপসুলের খোসা বা অন্যান্য মেডিকেল প্রোডাক্ট তৈরির জন্য।
    • সাইড ট্রিমিং: ফ্লেশিং শেষ হওয়ার পর একজন দক্ষ অপারেটর বা ওয়ার্কার কনভেয়র বেল্টের ওপর চামড়াটি রেখে এর চারপাশের অপ্রয়োজনীয় বা আঁকাবাঁকা অংশগুলো কেটে বাদ দিয়ে দেন। এই বাদ পড়া অংশগুলোও জেলাটিন প্রোডাকশনে ব্যবহৃত হয়।

    ট্যানিং প্রসেস মানে পচনশীল চামড়াকে স্থায়ী রূপ দেওয়া

    ফ্লেশিং ও ট্রিমিন শেষ হওয়ার পর চামড়া আবার চলে যায় ব্যারেলে। এবার শুরু হয় চামড়া শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যাকে বলা হয় ট্যানিং (Tanning)। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মূলত একটি পচনশীল জৈব চামড়া চিরস্থায়ী এবং অপচনশীল লেদারে পরিণত হয়।

    চামড়াগুলোকে আবার ব্যারেলে ভরে তার মধ্যে মিনারেল সল্ট (যেমন ক্রোমিয়াম সালফেট) এবং বেশ কিছু স্পেশাল কেমিক্যাল মেশানো হয়। এরপর এই ব্যারেল একটানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা ঘোরানো হয়। কেমিক্যালগুলো চামড়ার ভেতরের কোলাজেন ফাইবারের সাথে বিক্রিয়া করে চামড়াকে শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। এই কেমিক্যাল রিঅ্যাকশনের পর চামড়াগুলোর রঙ হালকা নীলচে হয়ে যায়, যাকে লেদার ইন্ডাস্ট্রির ভাষায় ‘ওয়েট ব্লু’ (Wet Blue) বলা হয়।

    পানি নিষ্কাশন, থিকনেস পরিমাপ ও স্লিটিং করা

    ট্যানিং ব্যারেল থেকে বের করার পর ওয়েট ব্লু চামড়াগুলো পানিতে একদম ভেজা থাকে। তাই এগুলোকে পরবর্তী কাজের উপযোগী করতে পানি শুকানো এবং নির্দিষ্ট পুরুত্বে আনা প্রয়োজন।

    ওয়েল্ডিং বা রিংগিং (Wringing)

    প্রথমে চামড়াগুলোকে একটি ওয়েল্ডিং বা রিংগিং মেশিনের ভারী রোলারের ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। এই মেশিনটি চামড়ার ওপর তীব্র চাপ প্রয়োগ করে ভেতরের সমস্ত বাড়তি পানি চিপে বের করে দেয়।

    হিটিং ও রোলিং (Heating & Rolling)

    পানি বের করার পর চামড়াগুলোকে একটি হিটিং রোলিং মেশিনের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়। গরম রোলারের চাপে চামড়ার কুঁচকে থাকা অংশগুলো সোজা হয়ে যায় এবং চামড়া কিছুটা শক্ত ও সমান্তরাল রূপ পায়।

    স্লিটিং প্রসেস (Splitting)

    সব পণ্যের জন্য এক সমান পুরুত্বের চামড়ার প্রয়োজন হয় না। যেমন জ্যাকেটের জন্য পাতলা লেদার লাগে, আবার জুতোর সোলের জন্য মোটা। তাই চামড়ার থিকনেস বা পুরুত্ব মেপে একটি অত্যন্ত নিখুঁত ‘স্প্লিট মেশিনে’ (Splitting Machine) তা ঢোকানো হয়। এই মেশিনটি চামড়াকে মাঝখান থেকে কেটে দুটি স্তরে ভাগ করে দেয়। উপরের ভালো অংশটিকে বলা হয় ‘টপ গ্রেইন লেদার’ এবং নিচের অংশটিকে বলা হয় ‘স্প্লিট লেদার’।

    কালারিং, ড্রাইং এবং ফিনিশিং এর মাধ্যমে লেদারের আসল রূপ প্রদান

    এখনো কিন্তু চামড়া দেখতে আকর্ষণীয় হয়নি। এটিকে জুতো বা ব্যাগের উপযোগী করতে এর ওপর রঙের ছোঁয়া এবং চূড়ান্ত পলিশ দিতে হয়।

    • ডাইং বা কালারিং (Dyeing): চামড়াকে কালো, ব্রাউন বা অন্য যেকোনো রঙ করার জন্য আবার রোটেটিং ব্যারেলে নেওয়া হয়। রঙের সাথে সাথে চামড়াকে নরম ও নমনীয় করার জন্য এখানে বিশেষ ধরণের তেল (যেমন অ্যানিমেল বা ভেজিটেবল অয়েল) ব্যবহার করা হয়। এই প্রসেসটিও প্রায় ২৪ ঘণ্টা চলে।
    • ড্রাইং বা শুকানো (Drying): রঙ করার পর চামড়া শুকানোর জন্য বিভিন্ন মেথড ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ভ্যাকিউয়াম ড্রাইং বা টগল ড্রাইং। এখানে চামড়াগুলোকে মেটাল ফ্রেমে ক্লিপ দিয়ে টানটান করে আটকে গরম বাতাসের টানেলের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে চামড়ার সারফেস একদম মসৃণ হয়ে শুকিয়ে যায়।
    • কন্ডিশনিং ও কেমিক্যাল স্প্রে: শুকানোর পর চামড়াগুলোকে কয়েকদিন হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর এর ওপর এক বিশেষ ধরণের প্রতিরক্ষামূলক কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়, যাতে লেদারে কোনো বিষাক্ত উপাদান না থাকে এবং এটি ওয়াটারপ্রুফ বা স্ক্র্যাচ-রেজিস্ট্যান্ট হয়।
    • কোয়ালিটি চেক: সবশেষে শ্রমিকরা এই লেদারগুলোকে ইস্ত্রি বা আয়রন করে নেন। এরপর ল্যাবরেটরিতে মেশিনের সাহায্যে এর স্ট্রেচ (টান সহ্য করার ক্ষমতা) এবং ডিউরেবিলিটি বা স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা হয়। এই কোয়ালিটি চেকে পাস করলেই চামড়াটি রোল করে প্যাক করা হয় এবং ড্রেস বা শু-মেকিং ফ্যাক্টরিতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়।

    ফ্যাক্টরিতে লেদারের জুতো ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারিগরি

    ট্যানারি থেকে নিখুঁত লেদার যখন জুতো বা ব্যাগ তৈরির ফ্যাক্টরিতে আসে, তখন সেখানে চলে আধুনিক প্রযুক্তি এবং মানুষের হাতের কাজের চমৎকার মেলবন্ধন। যদি আমরা একটি জুতোর ফ্যাক্টরির দিকে তাকাই, তবে সেখানে জুতো তৈরির প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত:

    ধাপপ্রক্রিয়াবিবরণ
    ১. কাটিং ও পাঞ্চিংডিজাইন ও কাটিংকম্পিউটারের (CAD) সাহায্যে জুতোর ত্রিমাত্রিক ডিজাইন করা হয়। এরপর লেজার কাটিং মেশিন বা দক্ষ কাটার দিয়ে চামড়া কেটে জুতোর বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হয়। যেখানে যেখানে সুতোর সেলাই বা ছিদ্র লাগবে, সেখানে পাঞ্চিং মেশিনে ফুটো করা হয়।
    ২. সোল তৈরিমোল্ডিং প্রসেসজুতোর উপরের অংশ যখন চামড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে, তখন অন্য সেকশনে মোল্ডিং মেশিনের সাহায্যে তরল রাবার বা পিইউ (PU) দিয়ে জুতোর নিচের অংশ অর্থাৎ ‘সোল’ বা তলা তৈরি করা হয়।
    ৩. অ্যাসেম্বলি ও পলিশজোড়া লাগানো ও প্যাকিংজুতোর চামড়ার অংশ (Upper) এবং রাবারের সোলটিকে একসাথে এনে একটি শক্তিশালী হাইড্রোলিক পাঞ্চিং মেশিনের সাহায্যে প্রচণ্ড চাপে আঠা দিয়ে জোড়া লাগানো হয়। সবশেষে কোয়ালিটি ইন্সপেক্টররা নিখুঁতভাবে জুতোটি পরীক্ষা করেন, প্রিমিয়াম লিকুইড দিয়ে পলিশ করেন এবং চমৎকার বক্সে প্যাক করে শোরুমে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

    চামড়া শিল্পের অবিশ্বাস্য লাভ ও অর্থনীতির নমুনা হিসাব

    এবার আসা যাক আসল এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়ে—টাকা বা লাভের হিসাব। আর্টিকেলের শুরুতেই বলেছিলাম, কোরবানির সময় যে পশুর চামড়া মাত্র ৫০০ বা ১,০০০ টাকায় কেনা হচ্ছে, তার শেষ পরিণতি কী?

    হিসাবটা একটু সহজ করে দেখা যাক। একটি বড় সাইজের গরুর চামড়া থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর যে পরিমাণ ভালো কোয়ালিটির লেদার পাওয়া যায়, তা দিয়ে অনায়াসে ৪০ থেকে ৫০ জোড়া প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জুতো তৈরি সম্ভব।

    এখন বর্তমান বাজারে যদি একটি পিওর লেদারের জুতোর দাম সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকাও ধরা হয় (যদিও ভালো ব্র্যান্ডের জুতোর দাম ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা বা তারও বেশি হয়ে থাকে), তবে ৫০ জোড়া জুতোর বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১,০০,০০০ (এক লাখ) টাকা!

    [কাঁচা চামড়া: ৫০০ টাকা] 
           ↓ (ট্যানারি প্রসেসিং)
    [তৈরি লেদার] 
           ↓ (ম্যানুফ্যাকচারিং)
    [৪০-৫০ জোড়া জুতো] 
           ↓ (মার্কেট সেল)
    [মোট মূল্য: ১,০০,০০০ + টাকা]
    

    অবশ্যই এর মধ্যে কেমিক্যালের খরচ, ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ খরচ, শ্রমিকের মজুরি এবং যাতায়াত ভাড়া রয়েছে। কিন্তু সব খরচ বাদ দিলেও ভ্যালু এডিশন বা মূল্য সংযোজনের হার এতই বেশি যে, একটি চামড়া থেকে কোম্পানিগুলো হাজার গুণ পর্যন্ত মুনাফা বের করে নিতে পারে। জুতো ছাড়াও এই চামড়া দিয়ে যখন নামী-দামী ব্র্যান্ডের (যেমন গুচ্চি, হার্মিস বা লুই ভিটনের মতো লাক্সারি ব্র্যান্ড) মেয়েদের হ্যান্ডব্যাগ বা জ্যাকেট তৈরি করা হয়, তখন একেকটি পণ্যের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

    পরিশেষে বলা যায়, যে কাঁচা চামড়াটা অবহেলায়, অযত্নে রাস্তার পাশে পড়ে থাকে কিংবা কোরবানির হাটে যার কোনো কদর থাকে না—আধুনিক বিজ্ঞান, উন্নত প্রযুক্তি আর শত শত শ্রমিকের দিনরাত পরিশ্রমের ফলে সেটাই হয়ে ওঠে সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষের আভিজাত্যের প্রতীক। কাঁচা চামড়া থেকে শুরু করে শোরুমের কাঁচের বাক্সে সাজানো চকচকে জুতো বা ব্যাগ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই অত্যন্ত জটিল এবং নিখুঁত পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যায়।

    চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের এই পুরো প্রক্রিয়াটি এবং এর পেছনের এই বিশাল অর্থনীতির হিসাবটি আপনার কাছে কেমন লাগলো? কাঁচা চামড়ার এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের গল্পটা কি আপনি আগে জানতেন? অবশ্যই আপনার মূল্যবান মতামত নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন। লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!

    এ রকম ব্যাবসা-বাণিজ্য অজানা তথ্য জানতে MBangla-এর সাথে থাকুন। জানবেন ও শিখবেন ব্যবসা সম্পর্কে।